সম্প্রতি ঘোষণা করা ইউপিএসসি ২০২০-র ফলাফলে খুশির মহল রাজ্যে

0
165

সর্বভারতীয় শিক্ষাক্ষেত্রে বা চাকরিক্ষেত্রে আজও পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম ধরা হয় আমাদের এই ছোট পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরাকে৷ এখন যেন এখানেই জ্বলে উঠেছে অকাল দীপাবলির আলো৷ ত্রিপুরার এই ছোট্ট শহর কাঞ্চনপুর এবং আগরতলায় নেমে এসেছে খুশির জোয়ার।


সম্প্রতি ঘোষণা করা হয় ইউপিএসসি ২০২০-র ফলফল। আর ফলাফল বেরোতেই খুশিতে মেতেছে আগরতলা থেকে কাঞ্চনপুর। কাঞ্চনপুরের ধীমান চাকমা, গতকাল ফলফাল বেরোতেই জানা যায় ৪৮২তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন তিনি। ফলে কাঞ্চনপুর থেকে এই প্রথম কেউ ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন।

উত্তর ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর সাবডিভিশনে ১৯৯০ সালের ১৫ই নভেম্বর জন্ম হয় ধীমানের৷ বাবা পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র ধীমান হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করে এন আই টি আগরতলা থেকে বি.টেক ডিগ্রী লাভ করেন৷ একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত থাকাকালীনই ২০১৬ সালে প্রথম ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করেন ধীমান চাকমা। ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ জেলায় ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসের অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন৷ আগামীদিনে নিজের রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করতে চান বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ধীমান। তাঁর কথায়, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ত্রিপুরার অবদান খুবই সামান্য। এর জন্য অবশ্য রাজ্যের ভৌগলিক অবস্থানই দায়ী বলে মনে করেন তিনি।


২০১৬ তে পাশ করার পরেও আবারও পরীক্ষায় বসেন তিনি। কিন্তু স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে এতকাল। অবশেষে ২০২০ ইউপিএসসি পরীক্ষায় প্রথম ৫০০ জনের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিতে পারলেন তিনি। অবশেষে একজন প্রশাসনিক আধিকারিক হিসেবে কাজ শুরু করতে চলেছেন ধীমান চাকমা। ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। তাঁর কথায়, ত্রিপুরার ছাত্ররা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে অবগত নন। অনলাইন এবং অফলাইনের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়গুলি সম্পর্কে তাঁদের অবগত করতে চান ধীমান।


ত্রিপুরারই আরেক সন্তান সুমিত পাল। খোয়াই সাবডিভিশনের সোনাতলা গ্রামের ভূমিপুত্র সুমিতের স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ওই গ্রামেই৷ বর্তমানে তিনি অবশ্য ত্রিপুরা নিবাসী৷ বাবা প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, এবং মা প্রাক্তন ক্রীড়া আধিকারিক। ২০১০ সালে হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষায় গোটা রাজ্যে সপ্তম হওয়া সুমিত পাল ২০২০ ইউপিএসসি পরীক্ষায় নিজের জায়গা করে নিলেন ৫৩৯ নম্বরে৷ খড়গপুর আই আই টি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা সুমিত চাকরির পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন পরীক্ষার প্রস্তুতি৷ আপাতত উৎসবের মেজাজে গোটা ত্রিপুরা।


গৌরবময় এই মুহূর্তে রাজ্যবাসী হিসেবে আমরা গর্বিত তাদের জন্য, যারা একটু একটু করে গোটা দেশের কাছে চিনিয়ে দিচ্ছে আমাদের এই ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরাকে ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে