বিজয় মালিয়ার গ্রেপ্তারের আদেশ ব্রিটেন সর্বোচ্চ আদালত

ভারতের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ন'হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্‍ করে বিদেশে পালিয়েছেন শিল্পপতি বিজয় মালিয়া। তিনি নিজে অবশ্য বলেছেন, সুযোগ পেলেই সব ঋণ শোধ করে দেবেন। বিজয় মালিয়া এখন রয়েছেন ব্রিটেনে। তাঁকে বন্দি করে ভারতে আনার জন্য সেদেশের আদালতে আর্জি জানিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি

0
234

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের টাকা তছরুপ করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন তিন শিল্পপতি বিজয় মালিয়া, মেহুল চোকসি ও নীরব মোদী। তাঁদের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির ক্ষতি হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৫ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। তিন পলাতক শিল্পপতিকেই ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। বুধবার তিনজনের মোট ৯৩৭১ কোটি টাকা জমা পড়ল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে। এর মাধ্যমে ব্যাঙ্কগুলির আংশিক ক্ষতিপূরণ হবে। ভারতের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ন’হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্‍ করে বিদেশে পালিয়েছেন শিল্পপতি বিজয় মালিয়া। তিনি নিজে অবশ্য বলেছেন, সুযোগ পেলেই সব ঋণ শোধ করে দেবেন। বিজয় মালিয়া এখন রয়েছেন ব্রিটেনে। তাঁকে বন্দি করে ভারতে আনার জন্য সেদেশের আদালতে আর্জি জানিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

ইতিমধ্যে ব্রিটেনের আদালতের বিচারক বলেছেন, জালিয়াতির মামলায় বিচারের জন্য বিজয় মালিয়াকে ভারতে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। মালিয়া আদালতে বলেছিলেন, ভারতের জেলের ভিতরে বন্দিদের খুব খারাপ পরিবেশে রাখা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে তাঁর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। তখন ভারতের গোয়েন্দারা জেলের ভিতরকার ভিডিও চিত্র আদালতে পেশ করেন। মে মাসের শেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ৫০ জন ঋণখেলাপির একটি তালিকা প্রকাশ করে।

 সেই তালিকায় সকলের ওপরে আছে হিরে ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির নাম। তাঁর কোম্পানি গীতাঞ্জলী জেমসের নামে ৫৪৯২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। চোকসির অপর দু’টি কোম্পানিও ঋণ নিয়েছিল বিপুল পরিমাণে। তার মধ্যে গিলি ইন্ডিয়া ঋণ নিয়েছিল ১৪৪৭ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন – দেশ জুড়ে শুরু হলো করোনা ভাইরাস এর বিরুদ্ধে টিকাদান , জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সরকারি নির্দেশিকা

 নক্ষত্র ব্র্যান্ডস নিয়েছিল ১১০৯ কোটি টাকা। আরইআই অ্যাগ্রো নামে একটি সংস্থা ৪৩১৪ কোটি ও উইনসাম ডায়মন্ডস কোম্পানি ৪০৭৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। 

পিএনবি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হওয়ার পর ২০১৮ সালে ভারত থেকে পালিয়ে অ্যান্টিগুয়া বারবুডায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মেহুল চোকসি।একসময় শোনা যাচ্ছিল, সেই দ্বীপরাষ্ট্রেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাঁকে। আইনজীবী বিজয় আগরওয়ালের স্বীকারোক্তির পর এ নিয়ে নানা মহলে চর্চা তুঙ্গে ওঠে। পরে জানা যায়, ডোমিনিকা হয়ে কিউবায় পালানোর চেষ্টা করছিলেন মেহুল চোকসি।

 কিন্তু এই ভারতীয় ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্য সফল হয় নি,ধরা পড়ে যান তিনি। তাঁকে ভারতে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট। ডোমিনিকার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হাতেই চোকসি ধরা পড়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। নৌকায় চড়ে ডোমিনিকা অবধি পৌঁছেছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তারপরেই পুলিশের জালে ফাঁসেন চোকসি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে