যে দশটি কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ আবার ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারকেই ক্ষমতায় আনবে

0
190

২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি কেন্দ্রে বহুমত নিয়ে সরকার গঠন করে এবং ২০১৫ সালে বিজেপি ১০০ মিলিয়ন নথিভুক্ত সদস্য নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে । এরপর থেকেই বিজেপি উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের উপর বিশেষভাবে মনোনিবেশ করে । বর্তমানে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে বিজেপি ও বিজেপির জোট সরকার রয়েছে । উত্তর-পূর্ব ভারত সম্পর্কে বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গির একটি হালকা আভাস পাওয়া যায় ২০১৪ সালে মেঘালয় রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণে ।

তিনি বলেছিলেন যে, “বাস্তুশাস্ত্র মতে গৃহের উত্তর-পূর্ব কোণ সর্বদা শ্রেষ্ঠ হওয়া আবশ্যিক । তবেই গৃহ সুন্দর হবে । ঠিক একইভাবে যদি আমরা উত্তর-পূর্ব ভারতের যত্ন নেই তবেই আমাদের ভারত এগিয়ে যাবে” । শুধু ভাষণেই নয়, বাস্তবেও বিজেপি সরকার এই অঞ্চলের সামগ্ৰিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে এবং এর মধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বাস্তবায়িতও হয়ে গেছে । সামনেই লোকসভা নির্বাচন । ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের বেশিরভাগ সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে বিজেপি পুনরায় কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে । বিজেপিকে নির্বাচিত করার পেছনে প্রচুর কারণ দর্শানো যেতে পারে । এখানে বাছাই করা দশটি কারণ নিয়ে আলোচনা করা হলো ।

NARENDRA MODI ( Source -Google)
  • উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিজেপিকে পছন্দ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নরেন্দ্র মোদীর ‘act east’ নীতি । এই নীতির মাধ্যমে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল, সড়ক পরিবহন এবং বিমান পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে । এই নীতির অঙ্গ হিসেবে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতকে যুক্ত করা হয়েছে এবং একইসাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যগুলোর মধ্যেও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে । বিজেপির এই নীতির ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘকাল ভারতের মূল জনপদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা উত্তর-পূর্ব ভারত ভারতের মূলধারার সাথে যুক্ত হয়েছে ঠিক তেমনি এই অঞ্চলের মানুষের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে ।
  • ‘Digital North East Vision 2022’-এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘অষ্টলক্ষ্মী’ আটটি রাজ্যের জন্য আটটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেবে । এই ডিজিটাল ভিশনে আটটি লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে যা ২০২২ সালের মধ্যে অর্জন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে । এই আটটি লক্ষ্যের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন, ডিজিটাল সেবা, তথ্য প্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে । এছাড়া বাংলাদেশের সহায়তায় এই অঞ্চলে ১০ গিগাবাইট অতিরিক্ত ব্যান্ডউইথ উপলব্ধ করা হয়েছে । নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ডিজিটাল ইন্ডিয়া নতুনভাবে এই অঞ্চলের জীবনযাত্রা বদলে দেওয়ার কাজ করছে ।
  • উত্তর-পূর্ব ভারতে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিজেপি সরকার ‘North East Special Infrastructure Scheme’-এর অধীনে জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন ইত্যাদি বিষয়ের জন্য পৃথকভাবে অর্থ বন্টন করেছে যা এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সাহায্য করছে । পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে এই অঞ্চলে নতুন রোজগারের পথ খুলবে এবং এর ফলস্বরূপ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে ।
  • UDAN স্কীমের অন্তর্গত সিকিমের প্রথম বিমানবন্দরের উদ্বোধন নিঃসন্দেহে উত্তর-পূর্বের মানুষের কাছে বহুকাল প্রত্যাশিত ছিল । সিকিমের পাকইয়ং এয়ারপোর্ট ভারতের ১০০তম এয়ারপোর্ট । সাধারণ মানুষ কথা ভেবে এটিকে UDAN স্কীমের অন্তর্গত রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষও বিমানে সফর করতে পারেন । লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পুনরুত্থানে এই পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ।
  • উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্রুত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে নীতি আয়োগ ‘Niti Forum for North East’ গঠন করে । এই ফোরামে বলা হয় যে এই অঞ্চলের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে “HIRA”(Highways, inland waterways, railways & airways) গ্ৰহণ করা হয় । এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিগত শিক্ষা ইত্যাদির উপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে ।
  • উত্তর-পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক সংস্কৃতির উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার সিকিম, অরুনাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামে Tribal Research Institutes গঠন করেছে যা এই অঞ্চলের স্থানীয় সংস্কৃতি অধ্যয়ন, গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । এছাড়া North Eastern Council স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ সম্বন্ধিত বিভিন্ন পরিকল্পনার জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেছে ।
  • বিজেপি সরকার ভারতের অর্থনীতির আধুনিকায়নে বেশ কিছু সংস্কারের সূচনা করেছে । যেমন জি.এস.টি. প্রণয়নের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরোক্ষ করের বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ককে একত্রিত করা হয়েছে । মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও এই সরকার অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে যা শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতই নয়, ভারতের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের মনে বিজেপি সরকারের একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছে । সম্প্রতি ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ।
  • বিজেপি সরকারের আরো একটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলো আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য বীমা । এই প্রকল্পের মাধ্যমে যেকোনো পিছিয়ে পড়া পরিবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যেকোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে পারেন । এটি বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে । আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্পের ভূমিকাই হবে সর্বাধিক ।
  • সাধারণ শ্রেণীর মানুষ যারা আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন তাদের জন্য কোনো সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেনি । বিজেপি সরকারই এই প্রথম আর্থিক দিক থেকে দুর্বল উচ্চবর্ণের মানুষের জন্য চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় ১০% সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে । বিজেপির এই পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই আরবান ভোটারদের প্রভাবিত করবে ।
  • বিজেপির অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বল যোজনা যার মাধ্যমে দেশের গ্ৰামীণ অঞ্চলের প্রায় ৫ কোটিরও বেশি পরিবারকে এল.পি.জি. কানেকশন প্রদান করা হয়েছে । উজালা স্কীমের মাধ্যমে সকলকে সস্তায় এল.ই.ডি. বাল্ব প্রদান করে বিজেপি সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ইলেকট্রিক বিলের বোঝাও অনেকাংশে লাঘব করতে সক্ষম হয়েছে । গোটা দেশেই এর সমান প্রভাব পড়েছে ও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পুনরুত্থানে এই সকল নীতি ও পদক্ষেপ ভোটারদের মতামত গঠনে সাহায্য করবে ।

আরও পড়ুন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে