লকডাউনে মনের জোরই শেষ কথা ,তাই যত্ন নিন মনের

0
680

কোভিড প্যান্ডেমিকে গৃহবন্দী থেকেছে মানুষ মাসের পর মাস। কেউ হারিয়েছেন স্বজন, কেউ হারিয়েছেন জীবিকা। কারো কারো ক্ষেত্রে থমকে গেছে জীবন। ব্যাপক হারে বেড়েছে আত্মহত্যার ঘটনা। একাকিত্ব হোক বা বেকারত্ব, লড়াই করতে করতে থেমে গেছে বহু মানুষের জীবন। আত্মহত্যা নামক এই মহা ব্যাধির থেকে সেরে ওঠার জন্য চাই অপরজনের হাত, পারস্পরিক নির্ভরতা আর মনের জোর।

।। মনের খবর কেই বা রাখে
ভালো আছি না কি মন্দ
থমকে গেছে জীবন যখন
কাটছে সুর কেটেছে ছন্দ ।।

কাউন্সেলিং –

মনের পরিচর্যায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়টির নাম ‘কাউন্সেলিং’।গ্রাম্য অঞ্চলের কথা বাদ দিলাম, আজও মফস্বলের একটি বৃহৎ অংশের মানুষেরা মানতে চান না মনের ক্ষত সারিয়ে তোলার জন্য ডাক্তারের প্রয়োজন বা মানসিক স্বাস্থ্য বলেও একটা টার্ম এক্সিস্ট করে৷ দূরে যেতে হবেনা, আপনার আশেপাশেই এমন অসংখ্য উদাহরণ পাবেন৷ একটা কথা ভীষণ রকম সত্যি যে আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই বহুবার বহুকারণে এমন সময় আসে যখন আমাদের মানসিক স্থিতি নষ্ট হয়, যার রিকভারি করতে পারেন একমাত্র কোনো পেশাদার মনোবিদ। কিন্তু আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দিইনা তার।

আরও পড়ুন জেনে নিন ডিপ্রেশন কি ? কীভাবে বাঁচবেন ডিপ্রেশনের শিকার হওয়ার থেকে ?

একটা কথা খুব পরিচিত “Time heals all the pain”. সময়ের সাথে সাথে সে যন্ত্রণার প্রকোপ হয়তো কমে যায়, কিন্তু যে গভীর ক্ষত ইতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়ে থাকে তা আর সেরে ওঠার সুযোগ পায় না। আর এগুলিই জন্ম দেয় ‘সুইসাইড’ নামক ভয়াবক ব্যাধির৷

আত্মহত্যার জন্য যে ভীষণ রকম সাহসের প্রয়োজন তা আমরা সকলেই জানি, আর এই সাহস সঞ্চয় তখনই সম্ভব যখন জীবন সংক্রান্ত সমস্ত ভয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া যায়। সুশান্ত সিং রাজপুত এর মৃত্যুর পর বহুমানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন ” মন খারাপ হলে কথা বলুন”। কিন্তু সত্যি কথা এটাই একজন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত মানুষ নিজে থেকে কথা বলতে পারেন না৷ তাকে দিয়ে কথা বলাতে হয়, যা একমাত্র একজন পেশাদার মনোবিদই পারেন ৷

আরও পড়ুন মাখার ক্রিম সম্পর্কে কিছু কথা (চতুর্থ পর্ব) : রাজা দেবরায়

এসব কিছু বলার একটাই উদ্দেশ্য, মানসিক স্থিতি হারিয়ে ফেললে মানুষ নিজেকেও হারিয়ে ফেলতে শুরু করেন, তাই আপনার কাছের কোনো মানুষকে এই পরিস্থিতিতে দেখলে নিজে থেকে মনোবিদের কাছে নিয়ে যান, জোরপূর্বক নিয়ে যেতে হলে সেটাই করুন।

আমি জানিনা নিজের মনের যত্ন নিজে কতটা নেওয়া যায়, কিন্তু কাছে থাকা মানুষগুলির মনের দায়িত্ব তো নেওয়াই যায়৷ তবে একটু একটু করে এই দায়িত্ব নিতে শুরু করলে আমার বিশ্বাস অদূর ভবিষ্যতে করোনা,ডেঙ্গি বা মেনস্ট্রুয়েশনের মতো মনোরোগ নিয়েও দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন হবে। এক দিনে না হোক, একদিন হবেই৷

কোভিড প্যান্ডেমিকে মনের জোরই শেষ কথা

মানসিক অবসাদে ভোগা ব্যক্তিরা একটা সময় পর মনে করেন এই পৃথিবীকে দেওয়ার মতো তাদের কিছু নেই, পৃথিবী থেকে পাওয়ার মতোও তাদের কিছু নেই। কিন্তু একটিবারও তখন তারা এটা ভাবেন না নিজেকে শেষ করে দেওয়ার পর যে মানুষ গুলি সংসারে পরে থাকেন তাদের জীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এই দোর থেকে ওই দোর, মিউনিসিপ্যাল অফিস থেকে কোর্টের চত্বর ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে যখন ফিরবে তাকে হাত ধরে ওঠানোর মতো কেউ থাকবেনা৷ এতটা স্বার্থপরতা কিন্তু ঠিক নয়, নিজের মুক্তি পাওয়ার বিনিময়ে৷ কথা বলুন৷ যত ভাঙবেন পাশের মানুষ মানুষটিকে আরও শক্ত করে ধরুন। মন খুলে কথা বলুন। জড়িয়ে ধরে কেঁদে ভাসান, কিন্তু ভুলেও পৃথিবী ছেড়ে মুক্তির কথা ভাববেন না৷

সব শেষে এটাই বলার, জীবনে যত ভাঙা-গড়া, ওঠা নামা আসুক, নিজেকে তার সাথে সাথে পরিণত করুন। এবার সময় হয়েছে শরীরের সাথে সাথে মনের যত্ন নিন ৷

আরও পড়ুন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে