চাকরি পাওয়ার চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে সিভি তে – কিভাবে লিখবেন কারিকুলাম ভাইটা

2
528

চাকরিক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার মুখোমুখি হওয়ার আগে জীবনপঞ্জি বা কারিকুলাম ভাইটা অর্থাৎ সিভি-ই হলো তাঁর কাছে আপনাকে চেনার চাবি। সিভি ঠিকমতো তৈরি করতে পারলেই তা সঙ্গে সঙ্গে নজর কাড়বে নিয়োগকর্তার। কিভাবে লিখতে হয় কারিকুলাম ভাইটা, দেখে নিন এক নজরে।

গবেষণা হোক নিজের ওপর

আগে ভেবে নিন, ঠিক কি ধরনের কাজ আপনি করতে চান। অথবা আপনি যে পড়াশোনা করেছেন তাতে কি ধরনের কাজ আপনি পেতে পারেন। আর আপনি কি ধরনের সিভি লিখবেন। কারণ আপনার সিভি তে যদি শুধু ‘আমি এই কাজ করেছি, আমি ওই সাফল্য অর্জন করেছি’ এই ধরণের কথার বারবার উল্লেখ থাকে, তাহলে ধরে নিতেই পারেন, এক ঝলক দেখেই নিয়োগকর্তা সেটি বাতিল করে দেবেন। আপনাকে আপনার সাফল্যের কথাই বলতে হবে, কিন্তু এই ‘আমি,আমি’টা বাদ দিয়ে। সুকৌশলে, যাতে তা নিয়োগকর্তার নজর কাড়ে।

Sample Resume ( Source – Google)

        বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খেয়াল করবেন চাকরির ক্ষেত্রে কিন্তু জব ডেসক্রিপশন-এর সঙ্গে সঙ্গে পার্সন স্পেসিফিকেশন এর বিষয়েও তথ্য দেওয়া থাকে। জব ডেস্ক্রিপশনে আপনার কি কাজ সেই বিষয়ে বলা থাকবে, আর পার্সন স্পেসিফিকেশন হলো সেই কাজ টা করার জন্য প্রার্থীর কাছে কি ধরনের সামর্থ্য বা দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে তার তথ্য। এমন হতেই পারে জব ডেসক্রিপশন দেখে আপনার মনে হলো, এই ধরণের চাকরির খোঁজেই আপনি ছিলেন, কিন্তু পার্সন স্পেসিফিকেশন দেখে হয়ত বুঝতে পারলেন, বেশ কিছু জায়গায় আপনার খামতি রয়ে গেছে। সুতরাং সিভি লেঝার সময় এই বিষয় গুলি কিন্তু অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

কেমন হবে সিভির কাঠামো

★ খুব প্রয়োজন না হলে সিভি দু’পাতার বেশি বড় করবেন না।

★ পুরো সিভি টা একটা ফন্টেই লিখতে হবে, এবং এক্ষেত্রে কোনো পরিচিত ফন্ট ব্যবহার করাই শ্রেয়। ফন্টের সাইজ ১১/১২ বা তার বেশি রাখলে ভালো। দুটি বাক্যের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা যেন থাকে।

★ সিভিতে কোনো ধরনের অলঙ্করণ একেবারেই করবেন না।

★ অনেকেই দেখা যায়, সিভিতে নিজেদের পাসপোর্ট আকারের ছবি আটকে দেন। মাথায় রাখবেন, সাধারণত সিভি-তে কিন্তু ছবির দরকার পড়ে না।

★ সিভি সাধারণত ইংরেজিতেই লেখা হয়। ভাষা যেন হয় অবশ্যই সহজ-সরল।বাক্যগঠন, বানান ভুল- এসব সিভিতে থাকলে তাতে কিন্তু নিয়োগকর্তার আপনার উপরে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে। সিভি বানানো হয়ে গেলে যদি সম্ভব হয় কোনো পেশাদার ব্যক্তি, যিনি এরকম নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত তাকে দেখিয়ে নিতে পারেন।

★ সিভি সাধারণত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফরম্যাটেই লেখা হয়। কারণ অধিকাংশ জায়গাতেই সিভির প্রিন্ট আউট জমা নেওয়া হয়। তবে সিভির সফট কপিও অবশ্যই কাছে রাখবেন। আজকাল অনেক প্রতিষ্ঠানেই ইমেল করে সিভি পাঠাতে হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

★ আপনি সর্বশেষ যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন সেটা দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বোর্ডের পরীক্ষা পর্যন্ত লিখতে হবে। লেখার সময় শুধুমাত্র ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠান এবং প্রাপ্ত নম্বর লিখলেই যথেষ্ট নাও হতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান হয়ত জানতে চাইতে পারে আপনি কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, সেক্ষেত্রে সেই তথ্যগুলিও সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে। কোথাও কোনো ওয়ার্কশপ বা সেমিনারে যোগ দিয়ে সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন, সিভিতে তাও উল্লেখ করতে হবে। সেইসাথে সেখানে আপনার ভূমিকা বা সাফল্যের কথাও স্বল্প কয়েকটি বাক্যে বলে দিতে পারেন।

★ এরকম হতে পারে, কোথাও কোনো স্বল্প মেয়াদের কম্পিউটার কোর্স বা বিদেশি ভাষার কোর্স করা শুরু করেছিলেন, কিন্তু কোনো কারণে সেটি কোনো কারণে শেষ করতে পারেননি, সেক্ষেত্রে কোর্সের বিষয় কি ছিলো, কতদিন সেটি করেছিলেন, সেগুলিও উল্লেখ করতে ভুলবেন না।

অভিজ্ঞতা

★ চাকরি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রার্থী দের সুযোগ বেশি হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানই ফ্রেশারদের সুযোগ দেয়। তবে আবেদন করার আগে যদি কোনো কোর্স বা ইন্টার্নশিপ করে থাকেন, সেই তথ্যও সিভি তে উল্লেখ করে দেবেন।

★ যাদের চাকরি ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের পুরনো চাকরির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য লিখতে হবে। যেমন ধরুন, কোন সংস্থায় কাজ করেছেন, কত বছর করেছেন, কী পদে ছিলেন, কী ধরনের প্রোজেক্টর সাথে যুক্ত ছিলেন, ইত্যাদি। শিক্ষাগত যোগ্যতার মতোই শেষ চাকরির যেটা করেছেন, সেটিই প্রথমে রাখবেন। মাথায় রাখবেন অপ্রয়োজনীয় বিশেষণ বা বাড়তি কথা ব্যবহার না করাই ভালো।

★ বর্তমান চাকরি ক্ষেত্রে ‘লিডারশিপ’ বিষয় টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে কোনো প্রোজেক্টে যদি আপনার টিম লিডারশিপ এর অভিজ্ঞতা থাকে, সেটিও অবশ্যই উল্লেখ করবেন।

এক্সট্রাকারিকুলার

★ খেলাধুলো, লেখালিখির মতো এক্সট্রাকারিকুলার অ্যাক্টিভিটির সাথে যুক্ত থাকলে,সেটি সিভিতে জায়গা অনুযায়ী যোগ করে দিতে হবে।

★ আপনার হবি-র বিষয়টিও উল্লেখ করতে ভুলবেন না।  হতে পারে আপনি কোনো টেকনিক্যাল কাজের জন্য আবেদন করেছেন, অথচ আপনি নিজেই একটি পার্সোনাল ওয়েবসাইট চালান, আপনার সিভিতে এই ধরণের তথ্য কিন্তু চাকরির দৌড়ে অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় অনেকটা এগিয়ে দেবে।

★ যদি আপনার এলাকায় কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ যেমন, দরিদ্র শিশু দের পড়ানো, রক্তদান শিবির, লোকালয় পরিষ্কার, সমাজ সচেতনতামূলক সভা আয়োজন,  এই ধরণের কাজে যুক্ত থেকে থাকেন, অবশ্যই সেগুলিও উল্লেখ করবেন। এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন নিয়োগকর্তারা।

আরও পড়ুন

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে