এই ইংলিশ কুলি ম্যান কিন্তু নেট দুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল

0
110

পেশায় রেলস্টেশনের বৃদ্ধ কুলি, অথচ কি সাবলীল ভাবে পড়ে চলেছেন ইংরেজি খবরের কাগজ৷ সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। 


আসলে প্রতিভা প্রকাশের জন্য আসলেই নেই কোনও বয়সের প্রয়োজন৷ শেখার জন্য প্রয়োজন শেখার তাগিদ এবং সাহস। আর তা থাকলে বয়স তো শুধু সংখ্যা মাত্র৷ এটা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন বিহারের গয়া স্টেশনের বছর সত্তরের এই কুলি।


৭০ বছর বছরের শিব কুমার গুপ্তা, বিহারের গয়া জংশন স্টেশনে জিনিসপত্র টানার কাজ করেন৷ কুলি হিসেবে কাজ করলেও, তিনি অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন৷ এই কাজের জন্য মানুষ তাঁকে ইংলিশ কুলি ম্যান নামে চেনেন।

হ্যাঁ হয়ত স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কাছে অস্বাভাবিক লাগে বিষয়টি৷ তবে শিব কুমার গুপ্তার কোন প্রথাগত বা পুঁথিগত কোন ডিগ্রি নেই, ইংরেজিতে কথা বলার জন্য কোনো বিশেষ ট্রেনিং ও নেন নি তিনি৷ তা স্বত্ত্বেও তাঁর ঝরঝরে ইংরেজি কথা অবাক করে দেয় স্টেশন ফেরত যাত্রীদের৷ আর তাই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গয়া জংশন স্টেশন — এই ইংলিশ কুলি ম্যান কিন্তু রীতিমতো ভাইরাল।


শরীর এখন কিছুটা অক্ষম হয়েছে বার্ধক্যের কারণে। কিন্তু তাতে বরং আরও আরও বেড়েছে মনের জোর৷ শিবকুমারের কথায় তিনি একজন কুলির কাজ করেন, কিন্তু সবার আগে তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি মানুষের কাজে লাগতে পারেন, মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেন। একজীবনে এর চেয়ে বেশি তো আর কিছু পাওয়ার নেই। শিব কুমার গুপ্তার এই  বৈশিষ্ট্য যদিও। যদিও সাধারণ কুলিরা ঠিকমতো হিন্দিই বোঝে না, কিন্তু শিবকুমার গুপ্তা কোনো ডিগ্রি ছাড়াই ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন৷ ফলে কোনও বিদেশি পর্যটক গয়ায় এলে, তিনি তাঁদের সাহায্য করতে পারেন সহজেই৷ অন্যান্য কুলিদের হয়ে দরদামও ঠিক করে দেন। সাধারণত যখনই কোনও বিদেশি পর্যটক গয়া স্টেশনে আসেন, তখনই ডাক পড়ে শিবকুমার গুপ্তার৷ তাদের ব্যাগপত্র টানার পাশাপাশি শিবকুমার গুপ্তা তাদের গাইডও করতে পারেন৷ আর এটাই তাঁর জীবনের সব থেকে বড় প্রাপ্তি, নিজমুখেই একথা স্বীকার করেন শিব কুমার৷ তাঁর ব্যবহারের কারণে মানুষ তাঁকে খুব পছন্দ করে। বহু মানুষ প্রায়ই তাঁকে জিজ্ঞাসা না করে না বলে উপহার দেন। সকলেই ইংলিশ কুলি ম্যানকে খুব ভালবাসেন৷


শিব কুমারের কথায়, “আমার কোন শিক্ষা বা ডিগ্রি নেই, তবুও আমি ইংরেজি বলতে শিখেছি৷” গয়া জংশনে কর্মরত অন্য একজন কুলি বলেন, “শিবকুমার গুপ্তাকে বাবা বলা হয়, তারপর তাকে ইংরেজি কুলি ম্যান নামে ডাকা হয়। তিনি সবাইকে সাহায্য করেন৷ যখন অন্যান্য কুলিরা কিছু বুঝতে পারেন না, তখন তারা এই শিবকুমার বাবার কাছে ছুটে যান। সকলের পাশে দাঁড়ান তিনিও৷”


সময় বদলালেও কিছু জিনিস আজীবন একই থেকে যায়। মানুষের জীবনে প্রকৃত সাফল্য হলো সময়ের সাথে পরিস্থিতির সাথে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যার কাছে হার মেনে যায় কাগজ কলমের ডিগ্রী বা শিক্ষাকে। যার এক অনন্য নজির গয়া জংশন রেলওয়ে স্টেশনের চালচুলোহীন কুলি শিবকুমার গুপ্তা৷ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে