বাড়িতে বসেই বাজিমাত – চমকপ্রদ রোজগার এবার অনলাইনে

3
336

এই সময় দাঁড়িয়ে প্রতিদিন ক্রমশ বেড়ে চলেছে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা। দরকারি তথ্য, টিকিট বুকিং থেকে বিনোদন, এমনকি দৈনন্দিন খুঁটিনাটি পর্যন্ত ইন্টারনেটে খুঁজে নিচ্ছেন মানুষ। রয়েছে ইন্টারনেট থেকে আয়ের সুযোগও। শুধুমাত্র ইন্টারনেট থেকে আয় করেই দিব্যি আছেন অনেকেই৷ কারো ক্ষেত্রে মাসিক রোজগার কয়েক লক্ষ।

এক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে বাড়িতে বসে কাজ করা যায়। শুধু বাড়িতে বসেই নয় কাজ করা যায় যেখান থেকে খুশি৷ শুধু একটি ল্যাপটপ আর একটা ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই হলো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাজিমাত করে শুধুমাত্র একটি স্মার্টফোনই। তবে অবশ্যই ইন্টারনেট থেকে রোজগার করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখবেন না। অনেকক্ষেত্রেই এরকম প্রতিশ্রুতিও আসে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধান। ইন্টারনেট থেকে রোজগারের ক্ষেত্রে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

Picture source Google.

বিভিন্ন উপায়ে অনলাইনে আয় করা যায়। মনে রাখবেন কোনো কাজেরই শর্টকাট হয় না। পরিশ্রমই সাফল্য আনে। আইন মেনে কাজ করলে রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাওয়া যায় না।

জেনে নিন কি কি উপায়ে অনলাইনে রোজগার করা যায় –

১. ফ্রিল্যান্সিং

কোনো ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই অনলাইন বিজনেসের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো ফ্রিল্যান্সিং। প্রযুক্তিবিদ্যায় আগ্রহী হলে বা এই বিষয়ে জ্ঞান থাকলে এই পদ্ধতিতে আয় করা সহজ। গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলপাররা এখানে কাজ পেতে পারেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে কাজ করিয়ে থাকে। সেজন্য সেই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে লগ ইন করে প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। চুক্তির যাবতীয় শর্ত এবং দেনা পাওনা বুঝে কাজ শুরু করবেন,নাহলে ঠকতেও হতে পারে৷ যেই ব্যক্তি আপনাকে কাজ দিয়েছেন, তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে বলুন তিনি খুশি হলে রিভিউ দিতে। এতে আপনার প্রোফাইলের জনপ্রিয়তা বাড়বে।

ওয়েবসাইট লিঙ্ক

www.freelancer.com

www.fiverr.com

www.upwork.com

২. ব্লগিং

ওয়েবসাইটের মত নিজস্ব ব্লগ তৈরি করেও রোজগার করা সম্ভব। ওয়েবসাইটের তুলনায় ব্লগ খোলার খরচ অপেক্ষাকৃত কম। অনেকক্ষেত্রে বিনামূল্যেই ব্লগ তৈরি করা যায়৷ তবে শুধুমাত্র খুলে নিলেই হলো না, তাকে আপডেট করতে হবে প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন বিষয়ে লিখতে পারেন ব্লগ। ট্রাভেলগ,  একাডেমিক এমনকি টেকনিক্যাল বিষয় নিয়েও লিখতে পারেন। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন। ব্লগ থেকে রোজগার কিন্তু সময়সাপেক্ষ। ব্লগ খুলে লেখা শুরু করলেই সেখান থেকে তৎক্ষনাৎ রোজগার করা সম্ভব হয় না৷ ধৈর্য্য, শ্রম আর অধ্যাবসায়েই মিলবে ফল।

৩. কন্টেন্ট ক্রিয়েটিং / ইউটিউব

ব্লগ রাইটিংকে একাধারে বলা হয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটিং; কিন্তু এর যে বিপুল  ব্যপ্তি তা হলো ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটিং। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইউটিউবের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তবে অবশ্যই দক্ষতা থাকতে হবে সম্পাদনা করার৷ যে বিষয় আপনার ভালো লাগে যেমন রান্না, বেড়ানো,পড়ানো, গান তেমন যেকোনো বিষয়ের ওপরেই বানাতে পারেন ভিডিও। বর্তমানে চ্যানেল কে মানিটাইজ করা বা এর থেকে রোজগারের নিয়মকানুনে কিছু পরিবর্তন এসেছে, সেই বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন।

৪. ওয়েবসাইট তৈরি

নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করেও প্রসস্থ হতে পারে আপনার রোজগারের পথ। যে বিষয়ে আপনার দক্ষতা আছে সেটিই হতে পারে আপনার ওয়েবসাইটের সাবজেক্ট। ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে গেলে তাকে জুড়ে দিন গুগল অ্যাডসেন্সের সাথে৷ ব্যস এবার শুধু তাকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পালা। স্যোশাল মিডিয়া কে ব্যবহার করুন সেক্ষেত্রে। মানুষ যতবেশি আপনার ওয়েবসাইটে লগ ইন করে পড়বে, বাড়বে আপনার রোজগার।

৫. সার্ভে সার্চ এবং রিভিউ

অনলাইন সার্ভে না সমীক্ষায় অংশ নিয়েও আপনি আয় করতে পারেন। বেশ কিছু ওয়েবসাইট এই ধরণের সার্ভে প্রোভাইড করে। এছাড়া অনলাইন সার্চ করেও আয় করা সম্ভব। বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ লিখেও হতে পারে আয়।

৬.অনুবাদক

বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা থাকলে আপনি অনুবাদক হিসেবে কাজ পেতে পারেন।  তবে এক্ষেত্রে ভারতীয় ভাষায় কাজ পাওয়ার সুযোগ কম। এটিও একধরণের ফ্রিল্যান্সিং। কোনো বিদেশি ভাষা সম্বন্ধে ভালো জ্ঞান থাকলে এই কাজ আপনার জন্যেই। বিভিন্ন নথিপত্র অনুবাদ করে সাধারণত শব্দ পিছু অর্থ পাওয়া

৭. অনলাইন শিক্ষকতা

পেশা হিসেবে অনলাইন গৃহশিক্ষকতার প্রবণতা গোটা বিশ্বে ভীষণ ভাবে বাড়ছে। এক্ষেত্রে ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। যেকোনো বিষয়ে দক্ষতা থাকলে সেই বিষয় আপনি অনলাইনে পড়াতে পারেন। এক্ষেত্রে শুধু দেশের মধ্যেই নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিদেশের ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে হয়। বেশ কিছু ওয়েবসাইট এই ধরণের পঠনপাঠন পরিচালনা করে। এক্ষেত্রে প্রথমেই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়৷

৮. কন্টেন্ট রাইটিং সার্ভিস

যাদের লেখায় দক্ষতা আছে, তারা অনায়াসেই এই পেশায় আসতে পারে৷ সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লিখে নির্দিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠাত হয়। সাধারণত শব্দ পিছু পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

3 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে