বিয়ের পরেও অটুট থাকুক বাবা মায়ের প্রতি মেয়ের দায়িত্ব – শ্রীকনা সরকার

0
159

বাবা-মা আর সন্তানের সম্পর্ক চিরকালীন, চিরদিনের৷ বিয়ের আগে আর বিয়ের পরে তার জীবনে ঘটে যায় বেশ কিছু পরিবর্তন। সাংসারিক বৃত্তে বাবা মা ছাড়াও ঢুকে যায় স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং সেই সম্বন্ধীয় আরও অনেক কিছু। সময়ের সাথে সম্পর্ক বদলালেও বদলে যায় না বাবা-মায়ের প্রতি তার দায়িত্ব, তাও আবার সেই মেয়েটি যখন হয় বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান৷

বদলেছে যা কিছু

বিয়ের আগে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আনন্দ দুঃখ সবকিছু ভাগ করে নেওয়ার মানুষই হলো বাবা-মা৷ বিয়ের পরে সেক্ষেত্রে কিছু বদল আসে। প্রতি সপ্তাহান্তেও যাওয়া হয়ে ওঠে না বাবা-মায়ের কাছে৷ সাংসারিক দায়িত্ব হোক বা অফিসের ওয়ার্ক প্রেশার, অফিস ফেরত মাঝেমধ্যে আকস্মিক ভাবে হাজির হয়ে যান নিজের ওই বাড়িটায়। বাবা-মায়ের কাছে এটাই বড় উপহার।

দায়িত্ব নিন নিজের সাধ্যমতো

বিয়ের পরে এমনিতেই দায়িত্ব বেড়ে যায় অনেকখানি। মাসের শেষে মাইনে পাওয়ার পর যখন অনায়াসে তার থেকে খানিক মায়ের হাতে তুলে দেওয়া যেত, সেটা যেন কমবেশি বিয়ের পরেও অক্ষুণ্ণ থাকে। আর এই বোঝাপড়া টা শ্বশুরবাড়িতে থাকা টাও প্রয়োজন৷ মেয়েটিকে ব্যালেন্স করতে হবে বাবা-মা এবং শ্বশুর-শাশুড়ি উভয় দিকেই।

শুধুমাত্র আর্থিক ভার বইলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নানারকম পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের পাশে এসে দাঁড়ানো প্রয়োজন৷ বার্ধক্যের দোরগোড়ায় একমাত্র সন্তানের অনুপস্থিতি, তাদের একাকিত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। আরও বেশিমাত্রায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, অল্পেই তারা বিচলিত হয়ে পড়েন। বাইরের কাজ তারা সেভাবে করে উঠতে পারেন না। তাই টাকা পয়সা আরও আনুষঙ্গিক কারণে সন্তান কাছে না থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এই বিষয়েও কিন্তু দায়িত্ব বর্তায় মেয়ের উপরেই। বাবা-মায়ের রুটিন চেক আপ, ওষুধ নিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া, রিপোর্ট, প্রয়োজনে ডাক্তার দেখানো এসব দায়িত্ব আপনি নিজে থেকে নিন। মাঝেমধ্যেই সারপ্রাইজ দিন বাবা মাকে। ছোটোখাটো গিফট বা ডিনার প্ল্যান

একাকিত্ব দূরে রাখুন

এক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট হয় সিঙ্গেল পেরেন্ট দের ক্ষেত্রে। স্বামী বা স্ত্রীকে ছাড়া সন্তানকে বড় করার ঝক্কি, তারপর মেয়ের বিয়ের পরে তার অনুপস্থিতি বাবা বা মায়ের জীবনে চরম ক্রাইসিসের সৃষ্টি করে৷ মেয়েও ততটাই দুশ্চিন্তায় থাকেন বাবা বা মাকে নিয়ে৷ এক্ষেত্রেও শ্বশুরবাড়ির তরফে সঠিক বোঝাপড়া প্রয়োজন৷ নিয়মিত বাবা বা মায়ের কাছে যাওয়া, ফোন করা, তাদের ছোটোখাটো প্রয়োজন মেটানো আবশ্যক। সর্বোপরি শুধুমাত্র কর্তব্য করাই নয়, দায়িত্ব পালন করুন ভালোবেসে৷ যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাহলে আর তাকে বোঝা মনে হবে না৷

মেয়েকে বুঝুন

বিয়ের পর মেয়ে যখন অন্য বাড়িতে নতুন লোকজনের সাথে থাকে, তখন তাকে বোঝার দায়িত্ব খানিক বাবা-মায়ের উপরেও বর্তায়। অনেকসময় মেয়ের সাংসারিক টানাপোড়েনের কথা কারও কাছে বলে উঠতে পারেনা, উল্টে প্রতি মুহূর্তে মন জুগিয়ে চলতে হয় বাবা মা থেকে শ্বশুর শাশুড়ির৷ মেয়ে কাছে এলে কখনও কখনও মেয়েকেও জিজ্ঞেস করুন তার কথা। তবে কখনোই তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে সংসারের খুঁটিনাটি জানতে জোর করবেন না। মেয়ে যেন মন খুলে তার কথা বলতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে